রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে শুরু গণ-আন্দোলন
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : ভাষাগত স্বাতন্ত্র্য চেতনা থেকেই বাঙালি জাতিসত্তার প্রথম প্রকাশ ঘটেছিল। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে শুরু হয়েছিল গণ-আন্দোলন। তবে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয় ১৯৪৮ সাল থেকেই। এই আন্দোলনে সহযোদ্ধা ছিলেন রমনীরাও। জানা যায়, ওই সালে গঠিত ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর সদস্য ছিলেন আনোয়ারা খাতুন ও লিলি খান। ওই আন্দোলনে নাদিরা বেগম পড়ুয়াদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ কারাবন্দি হয়ে অকথ্য নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল।
এ বিষয়ে আরও জানা যায়, রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন রওশন আরা বাচ্চু। মহিলাদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া উচিত- এই শিরোনামে তিনি রেডিও পাকিস্তানে বক্তব্য রেখেছিলেন। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি। ঘোষণা হয়েছিল- উর্দুই হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনদিন পালিত হয়েছিল কালো পতাকা দিবস। পড়ুয়ারা আন্দোলনে সামিল হন। এ প্রসঙ্গে আরও জানা যায়, ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ থেকে ৭০ জন পড়ুয়া ছিল, কলা ও বিজ্ঞান বিভাগ মিলিয়ে। নারী বা মহিলাদের মাথায় ঘোমটা বা বোরখা পরা থাকত। এমনকী পুরুষদের সঙ্গে কথা বলাও নিষেধ ছিল।
জরিমানা পর্যন্ত করা হত। এইসব বিধান ভেঙে পড়ুয়ারা আন্দোলন করেছিলেন। পাশাপাশি হস্টেল কর্তৃপক্ষের বার করে দেওয়ার হুমকি, অভিভাবকদের পড়া ছাড়ানোর ভয় দেখানো-সহ নানা বিষয় ছিল। তবে কোনও কিছুতেই দমানো যায়নি। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা দূর-দূরান্তের স্কুল, কলেজ থেকে পড়ুয়াদের সংগঠিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলা প্রাঙ্গণে নিয়ে এসেছিলেন। ১৪৪ ধারা অমান্য করে মিছিল বের হয়েছিল। ওই মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন সুফিয়া ইব্রাহিম, শামসুন্নাহার, সারা তৈফুর, শাফিয়া খাতুন ও রওশন আরা বাচ্চু-সহ অনেকেই। প্রথমে লাঠি চার্জ করা হয়। এরপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। এর মধ্যেই মিছিল এগিয়ে চলে বাংলা ভাষার দাবিতে। পূর্ববঙ্গের আইন পরিষদের দিকে এগিয়ে চলা। বেলা সাড়ে ৩টা নাগাদ শুরু হয় পুলিশের গুলি চালানো। লাঠি চার্জে অনেক পড়ুয়া জখম হয়েছিলেন। অনেক পড়ুয়া কারারুদ্ধ হয়েছিলেন।

